শরীরের তাপমাত্রা একটু বেশি হলেই আমরা থার্মোমিটার ব্যবহার করে থাকি। কেউ আবার ঘরের তাপমাত্রা জানতে নিয়মিত থার্মোমিটার ব্যবহার করেন। আর তাই আকারে ছোট এই যন্ত্র ধীরে ধীরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সপ্তদশ শতাব্দীর আগে মানুষের কাছে তাপ পরিমাপ করার কোনো যন্ত্র ছিল না। গরম বা ঠান্ডা ছিল কেবল একটি অনুভূতি। এই অনুভূতিকে একটি স্কেলে বন্দী করার যাত্রাটি শুরু হয়েছিল বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির হাত ধরে।
ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগে ও সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞানের বিপ্লব যখন তুঙ্গে, তখন গ্যালিলিও গ্যালিলি তাপ মাপার জন্য একটি যন্ত্র তৈরি করেন। সেই যন্ত্রের নাম ছিল থার্মোস্কোপ। কাচের নলযুক্ত থার্মোস্কোপের মাথায় একটি বাল্ব বা গোলক এবং নিচের দিকটি খোলা অবস্থায় একটি তরল পানির পাত্রে ডোবানো থাকত। বাল্বের ভেতরের বাতাস গরম হলে প্রসারিত হতো এবং নলের ভেতর জলের উচ্চতা নিচে নামিয়ে দিত। তবে এর কোনো নির্দিষ্ট স্কেল বা দাগ ছিল না। তাই এটি কেবল তাপের পরিবর্তন বোঝাতে পারত, নির্দিষ্ট মাত্রা নয়।


