বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অপরাধীর ভয় কমে যাচ্ছে

বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অপরাধীর ভয় কমে যাচ্ছে

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের হাতেও শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি ঘটনার পরই আমরা একই প্রশ্নের সামনে দাঁড়াই—কেন থামছে না? এই প্রশ্নের উত্তর একটি জায়গায় গিয়ে বারবার ঠেকে। সেটা হলো বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। নারী ও শিশু নির্যাতন নিঃসন্দেহে একটি সামাজিক ব্যাধি। এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ গঠন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ—সবকিছু একসঙ্গে দরকার। কিন্তু এই সব উদ্যোগের পাশাপাশি যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটি হলো অপরাধের দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার। কারণ, শাস্তির ভয় না থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

বর্তমান বাস্তবতা হলো একটি ধর্ষণ বা ধর্ষণ-হত্যার মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল, তারপর আপিল বিভাগে রিভিশন, রিভিউ এবং সবশেষে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ—পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ২৫ থেকে ৩০ বছর লেগে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে বিচারের ফলাফল সমাজে কোনো দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারে না।

এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে শত শত একই ধরনের অপরাধ ঘটতে থাকে। কারণ, সমাজ দেখে না যে বিচার হচ্ছে, শাস্তি হচ্ছে। অপরাধী জানে, বিচারপ্রক্রিয়া এতটাই দীর্ঘ যে শাস্তির বাস্তব আশঙ্কা তেমন নেই।

এই সংবাদটি বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত। প্রকাশিত তথ্যের সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা মূল প্রকাশকের।

অভিমত বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

সব দেখুন