মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঘুম একটি অপরিহার্য নেয়ামত। কিছু সহজ আমলের মাধ্যমে এই ঘুমকেও ইসলাম ইবাদতে পরিণত করেছে। তার মধ্যে অন্যতম আমল হলো ঘুমানোর আগে অজু করা। পরিচ্ছন্নতা ও শারীরিক প্রশান্তির পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ফজিলত ও আধ্যাত্মিক উপকারিতা। রাসুল (সা.) ঘুমানোর আগে অজু করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নিজে এই আমল করেছেন, সাহাবিদেরও তা করতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তুমি যখন ঘুমাতে যাবে, তখন নামাজের মতো করে ওজু করবে এবং ডানপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়বে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১১)
অজু অবস্থায় ঘুমালে শরীর যেমন পবিত্র থাকে, আত্মাও থাকে প্রশান্ত। এটি মানুষের জীবনে অনেক উপকারিতা আনে। ফেরেশতাদের সঙ্গ লাভ, দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি লাভ, মৃত্যুর পূর্বপ্রস্তুতি এবং দেহে সতেজতা আনে অজু। এগুলো আমাদের জীবনে অনেক উপকারিতা আনবে।
অজু করে ঘুমানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— এটি মৃত্যুর প্রস্তুতির মতো। ইসলামে ঘুমকে ছোট মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যার এখনো মৃত্যু আসেনি, তার নিদ্রাকালে।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৪২) এখানে ‘আমাতানা’ (আমাদের মৃত্যু দিয়েছেন) শব্দ ব্যবহার করে ঘুমকে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। একজন মুমিন যখন অজু অবস্থায় ঘুমায়, তখন সে যেন পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজেকে সোপর্দ করে।
যদি ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে, তবে সে পবিত্র অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করবে। যা অপরিসীম সৌভাগ্যের বিষয়।












