বন্ধুত্বের সঙ্গ যেন রক্তের সম্পর্কের চেয়েও কম নয়

বন্ধুত্বের সঙ্গ যেন রক্তের সম্পর্কের চেয়েও কম নয়

এপ্রিলের স্নিগ্ধ এক বিকেলে রেস্টুরেন্টের ছাদে আড্ডা দিচ্ছেলেন সাত নারী। কামরুন নাহার নেলি, কিসওয়ার ইসলাম, উন্মে সালমা, হাসিনা আক্তার, শামিমা আক্তার, ফজিলাতুন নাহার আর তানজিলা হোসেন। সবার বয়স প্রায় ৬৫। শুধু আড্ডা নয়, সবাই একে অন্যের হাত ধরে গান গাইছেন বৈশাখের ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। মাঝেমধ্যে নানা খুনসুটিতে অকারণেই হেসে উঠছেন। মনে হচ্ছে সবাই হারিয়ে গেছেন সেই ছেলেবেলায়। তাঁরা পড়তেন চট্টগ্রামের অর্পণা চরণ গার্লস হাইস্কুলে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বন্ধুত্ব তাঁদের। সময়ের স্রোতে ৫৩ বছর কেটে গেলেও বন্ধুত্ব এখনো অটুট। রেস্টুরেন্টে আড্ডা আর গানের মাঝে খাবারের অর্ডারের কাজটি ভাগাভাগি করে নিলেন তাঁরা। কেউ খাবার অর্ডার করছেন, আবার কেউ ট্রে করে নিয়ে আসছেন খাবারগুলো। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস, চাওমিন আর কোমল পানীয় ভাগাভাগি করে খেলেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কেউ কেউ নামাজে গেলেন। বাকিরা ভ্যানিটি ব্যাগ পাহারায় বসে আছেন।

তাঁদের একজন কিসওয়ার ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগেই তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে ব্যাকুল হয়ে পড়েন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য। একসঙ্গে বসে কথা বলতে। আজ দুপুর থেকেই তাঁরা এখানে, দুপুর ঘনিয়ে এখন সূর্য ডোবার পথে—এর পরও তাঁদের কথা যেন শেষ হচ্ছে না।

কিসওয়ার ইসলাম বলেন, এই বন্ধুত্ব শুধু হাসি আর আনন্দ ভাগাভাগি নয়, এটি যেন সবার মনের এক গভীর যোগাযোগ। যেখানে রয়েছে বোঝাপড়া, সহানুভূতি ও নির্ভরতার এক অনন্য বন্ধন। এটি যেন রক্তের সম্পর্কের চেয়েও কম নয়। স্বামী হারানোর মতো অনেক ধরনের কঠিন সময় পার করেছেন তাঁদের কয়েকজন। তবে সে সময় একে অন্যের পাশে ছিলেন। বন্ধুত্বের এই সঙ্গ সবার মানসিক চাপ কমিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

এই সংবাদটি বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত। প্রকাশিত তথ্যের সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা মূল প্রকাশকের।