আমি গত প্রায় ২৫ বছর ক্যালিফোর্নিয়া থাকি, যার বেশির ভাগ সময়েই কাটিয়েছি সান ডিয়েগো শহরে। পাঁচমিশালি মানুষের বসবাস এ শহরে। নিজেকে বাইরের কেউ মনে হয় না। শহরে মসজিদ আছে, মসজিদগুলো ইসলামিক সেন্টারও। শিশুরা পড়াশোনা করে, বড়রা শেখেন। আমরা জুমার নামাজে যাই, ঈদের নামাজে যাই। ১৮ মে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সকালে ইসলামিক সেন্টারে তখন বাচ্চাদের স্কুল চলছে। মসজিদরক্ষী আমিন আবদুল্লাহ আছেন পাহারায়। হঠাৎ দেখলেন, দুই বন্দুকধারী গুলি করতে উদ্যত হয়েছে। তিনি ওয়াকিটকিতে লকডাউন প্রটোকল চালু করলেন। ১৪০ জন শিশুসহ শিক্ষকেরা নিরাপদ স্থানে চলে গেলেন। নিজের জীবন দিয়ে তিনি হত্যাকারীদের প্রতিহত করলেন। নিজের আট সন্তানের কথা চিন্তা করেননি তিনি। একজন জাতীয় বীর তিনি। আর যে দুজন শহীদ হয়েছেন, তাঁদের একজন ২০ বছর ধরে সেবক, আরেকজন গুলির শব্দ শুনে সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন, যাঁর স্ত্রী ওই স্কুলেরই শিক্ষক।
আমরা সবাই জাতিবর্ণ–নির্বিশেষে একজন অন্যজনের ওপর নির্ভরশীল। একে অপরকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যাবে না। ঘৃণা ধ্বংস ডেকে আনে।
রাজধানীর মিরপুরের শিশুহত্যার কঠিন এবং দ্রুত বিচার চাই। শিশুগুলো বেঁচে থাকুক। মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা যেন নিরাপদে পড়তে পারে, সে পরিবেশের নিশ্চয়তা চাই। আমিন আবদুল্লাহর মতো অতন্দ্রপ্রহরী চাই আমরা। এত অপমৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারি না।

































































































































































































