ইরান সংকটকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। যখন কোনো অঞ্চলে সামরিক শক্তি প্রত্যাশিতভাবে ‘প্রতিরোধক্ষমতা’ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তেল। এখন হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে উপসাগরীয় নিরাপত্তার নিয়ম নির্ধারণ করছে, যেখানে একসময় প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিবেচিত হতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর।
হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সংকট সামাল দিতে যে জরুরি তেল মজুত থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ দেওয়া হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর ফলে বাজারে আবারও দামের চাপ বাড়ছে। কিন্তু সমস্যাটা শুধু দামের নয়। এর পরপরই একের পর এক প্রভাব তৈরি হয়—পেট্রল ও ডিজেলের দাম, জাহাজ চলাচল ও বিমা খরচ, কাঁচামালের দাম এবং শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি। এটি এশিয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি প্রণালি যদি খুব দ্রুত খুলেও দেওয়া হয়, তবু ক্ষতি সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হবে না। কারণ, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা রাতারাতি পুনর্গঠিত হয় না।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে এখন ইরানের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া বাস্তব কোনো পথ নেই। এটি কোনো আদর্শগত অবস্থান নয়; বরং নিরাপত্তার কঠিন হিসাব। পুরোনো সমীকরণ ভেঙে পড়ছে, আর যেসব সামরিক ঘাঁটি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে বলে ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে তা ততটা কার্যকর নয়।


































































































































































































