কক্সবাজারের রামুর খুটাখালীতে শরীরে ৬১ গ্রাম ওজনের গুলির ক্ষত নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে একটি মা হাতির মৃত্যু আমাদের প্রকৃতির এক চরম নিষ্ঠুর বাস্তবতা সামনে এনেছে। এই করুণ মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশে বন্য হাতির অস্তিত্বসংকটেরই ধারাবাহিক চিত্র। গত এক দশকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈদ্যুতিক শক, গুলি, মাইন বিস্ফোরণ, খাদ্যসংকটসহ নানা কারণে অন্তত ১২৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মৃত্যুর বেশির ভাগই মানবসৃষ্ট এবং প্রতিরোধযোগ্য ছিল।
একসময় দেশের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে হাতির অবাধ বিচরণ ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বনভূমি উজাড়, বসতি স্থাপন এবং দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের মতো অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডর আজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ঘোষিত ১২টি হাতি-করিডরের অনেক অংশ এখন স্থানীয় জনবসতি, বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনার দখলে। ফলে চিরাচরিত পথ হারিয়ে খাবারের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এতে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষ-হাতি সংঘাত, হাতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষও।































































































































































































































