জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ না থাকায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। এসপি শামীমা পারভীন বলেন, এখন পর্যন্ত চেহারার (সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি) মিলের কারণে মোট ১১ জনকে আটক করে তাঁদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আটক ব্যক্তিদের ছবি দেখিয়ে অপরাধীকে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় গত শুক্রবার তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন এসপি। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারে তাঁর বাসস্থান, রিকশার গ্যারেজ ও অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালানো হয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও উদ্ধার করা হয়েছে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, শাবল, রড, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে শামীমের স্থাপনকৃত বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা, ডিভিআর, মনিটর, রাউটার, মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী।
স্বচ্ছতার প্রশ্নে পুলিশের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব, সততা ও যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আসামিদের গ্রেপ্তারে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সাভার মডেল থানার ৩ জন কর্মকর্তা এবং পরবর্তী সময়ে কর্তব্য পালনে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ায় ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেছি। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার ও ভাঙচুর করা ক্যামেরা, ছিনিয়ে নেওয়া নগদ টাকার একটি অংশ ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। শামীমের অবৈধ রিকশার গ্যারেজটিও ইতিমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে।































































































































































































































