চোখের সামনে তলিয়ে আছে পাকা ধানের খেত। পানির তলা থেকে যেটুকু ধান কেটে উদ্ধার করা হচ্ছে, তা–ও রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বৃষ্টির কারণে ধান পচে যাচ্ছে, অনেক আঁটিতে অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে। পচা ধানের গন্ধ আর ফসল হারানো কৃষকদের আহাজারিতে হাওরপারের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় অপূর্ণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরপারের একাধিক প্রান্তিক কৃষক, বর্গাচাষি ও জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করা কৃষকেরা।
একাধিক কৃষকের অভিযোগ, শ্রমিক ও নৌকার সংকটের পাশাপাশি মজুরি ও ভাড়া বেশি হওয়ায় পানি থেকে কুড়িয়ে আনা ধানের মূল্যের সঙ্গে খরচের সামঞ্জস্য থাকছে না। পচন ও জালা ধরার অজুহাতে ক্রেতারা ধান কিনতে চাইছেন না; কিনলেও দিচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য। তাঁরা এ অবস্থায় ফসল নিয়ে টানাপোড়েনে আছেন—না পারছেন খেত ফেলে আসতে, না পারছেন তুলতে।
গতকাল রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের বিরইমাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছুটা রোদ উঠতেই কৃষকেরা ধান বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কেউ আধপাকা ধান কেটে তুলনামূলক উঁচু জায়গায় রাখছেন, কেউ নৌকায় করে কাটা ধান সরাচ্ছেন, কেউ ভেজা ধান মাড়াই করছেন। কোথাও স্তূপ করা ধানে পচন ধরেছে, কোথাও আবার পানি উঠে সেই স্তূপ ডুবছে। নৌকার অভাবে অনেকের কাটা ধান পানিতেই পড়ে আছে।































































































































































































































