বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে রপ্তানিতে একক পণ্য ও একক বাজারনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠাটা জরুরি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকেরা নানা ক্ষেত্রেই দেশের চাহিদার চেয়েও উদ্বৃত্ত উৎপাদন করে চলেছেন। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষকেরা ভূমিকা রাখলেও অতি উৎপাদনে তাঁরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আলু উৎপাদনে রংপুর জেলা মুন্সিগঞ্জ জেলাকে ছাড়িয়ে শীর্ষ চলে এসেছে। বর্তমানে রংপুর বিভাগ থেকে দেশের মোট চাহিদার ১৫ থেকে ২৪ শতাংশ আলু উৎপাদিত হয়। এটি নিঃসন্দেহে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য বড় সাফল্যের গল্প। তবে এই সাফল্যের বিপরীত চিত্র হচ্ছে আলু রপ্তানিতে রংপুর বিভাগ অনেক পিছিয়ে আছে। বিভাগের মোট উৎপাদিত আলুর মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ আলু বিদেশে রপ্তানি হয়।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো উঠে এসেছে, সরকারকে সেটা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। আলু রপ্তানি করতে হলে কৃষককে উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনার (গ্যাপ) মাধ্যমে আলু উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু আলু রপ্তানির অন্যতম বাধা হলো রংপুরে নির্দিষ্ট চুক্তিবদ্ধ চাষি জোন নেই। রপ্তানিযোগ্য আলু চাষের ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, হর্টেক্স ফাউন্ডেশন ও কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন কৃষকদের সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরাও উৎসাহিত হচ্ছেন না।
এটা বলাটা অত্যুক্তি হবে না যে কৃষকবান্ধব নীতি ও পরিকল্পনার ঘাটতি থাকার কারণে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কৃষকের জন্য অভিশাপের মতো বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। অনেক ফসলের ক্ষেত্রেই কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদন খরচটাই তুলতে পারেন না। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? গতবারের ধারাবাহিকতায় এ বছরও আলু উৎপাদন করে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। অথচ প্রশিক্ষণ ও নীতিসহায়তা পেলে রপ্তানিযোগ্য জাতের আলু উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকেরা লাভবান হতে পারতেন।































































































































































































































